বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সাক্ষাৎ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এম.পি-এর সাথে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর সভাপতি ওসামা তাসীর-এর নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। বাণিজ্য সচিব মোঃ মফিজুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এম.পি. বলেন, দেশে একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সহজীকরণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানির যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ একান্ত আবশ্যক এবং এ জন্য আমাদের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য পণ্যের জন্য প্রণোদনা ও বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। তিনি দেশের রপ্তানি পরিমাণ বাড়ানোর জন্য রপ্তানিমুখী পণ্যের খাতভিত্তিক চাহিদাপত্র প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দেন।

ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, ২০২৪ সাল নাগাদ এলডিসি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার জন্য রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বাজার সৃষ্টি ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে এমন বিষয়সমূহ নিয়ে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণে একটি সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে আমাদের একটি কমপ্রিহেনসিভ ট্রেড পলিসি প্রণয়ন ও অটোমেটেড শুল্ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেন। ডিসিসিআই’র সভাপতি ব্যবসা পরিচালনার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কোর-কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন, যেখানে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণসহ ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি রাখার আহবান জানান।ঢাকা চেম্বারের সভাপতি গার্মেন্টস শিল্পের মতো অন্যান্য শিল্পখাতের ব্যাক টু ব্যাক এলসি’র অনুমোদন প্রদানের পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা এবং জাহাজ নির্মাণ, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কর অবকাশ সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করেন। তিনি দেশের সকল সমুদ্র ও স্থল বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কাস্টমস সুবিধা ও সংশ্লিষ্ট বন্দরের ব্যাংকিং কার্যক্রম ২৪ ঘন্টা ব্যাপী পরিচালনার প্রস্তাব করেন, যার মাধ্যমে বহির্বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, দেশের ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে এসএমই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাই ‘এসএমই’র বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানি কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অধীনে একটি ‘এমএসএমই রপ্তানি উন্নয়ন ডেস্ক গঠনের প্রস্তাব করেন।

বাণিজ্য সচিব মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশ এলডিসি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, তাই সে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করা আবশ্যক। তিনি জানান, বর্তমানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে ইআরসি এবং আইআরসি-এর সনদ প্রদান করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হয়রানি হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস পাবে। তিনি জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক বিভিন্ন সনদ প্রদানের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ খোলার পরিকল্পনা করছে। 

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আবুল কাসেম খান, আশরাফ আহমেদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, ইঞ্জিঃ মোঃ আল আমিন, মোঃ রাশেদুল করিম মুন্না, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, শামস মাহমুদ এবং এস এম জিল্লুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

উৎসঃ ডিসিসিআই

Leave a Reply

*